এনজিওগ্রাম করলেই কি রিং (এনজিওপ্লাস্টি) লাগাতে হয়?

অনেকেই মনে করেন, এনজিওগ্রাম মানেই রিং (স্টেন্ট) বসানো। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। এনজিওগ্রাম মূলত একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হার্টের রক্তনালীগুলোতে ব্লক আছে কি না, থাকলে কতটা এবং কোথায় আছে—সেটা নির্ণয় করা হয়।


এনজিওগ্রাম কীভাবে কাজ করে?

এনজিওগ্রাম করার সময় একটি বিশেষ ডাই (contrast) রক্তনালীর মধ্যে প্রবেশ করানো হয় এবং এক্স-রে বা ফ্লুরোস্কোপি মেশিনের মাধ্যমে সেই নালীগুলোর ছবি তোলা হয়। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, কোন রক্তনালী সরু হয়ে গেছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না।


এনজিওগ্রামের ফলাফল সাধারণত চার ধরনের হতে পারে

1️⃣ কোন ব্লক নেই

  • রক্তনালী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কোনও চিকিৎসা প্রয়োজন নেই, শুধু নিয়মিত ফলোআপ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখতে হবে।

2️⃣ ব্লক আছে কিন্তু রিং লাগানো লাগবে না

  • যদি ব্লক ছোট হয় (সাধারণত ৫০%-এর কম) এবং রক্তপ্রবাহে বড় সমস্যা না করে, তাহলে শুধু ওষুধ, ডায়েট কন্ট্রোল, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন করেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

3️⃣ ব্লক আছে এবং রিং লাগানো লাগবে

  • যখন ব্লক বড় (সাধারণত ৭০%-এর বেশি) এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তখন এনজিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানো হয়, যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

4️⃣ ব্লক আছে কিন্তু রিং লাগানো যাবে না, বাইপাস সার্জারি করতে হবে

  • কিছু ক্ষেত্রে ব্লক একাধিক স্থানে বা এমনভাবে থাকে যে রিং বসিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। তখন করোনারি বাইপাস সার্জারি (CABG) করা হয়।

5️⃣ রিং বা বাইপাস কোনওটাই করা সম্ভব নয়

  • কিছু জটিল ক্ষেত্রে সার্জারি বা স্টেন্ট বসানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তখন শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

সুতরাং

এনজিওগ্রাম করার মূল উদ্দেশ্য হলো হার্টের ব্লকের ধরন নির্ণয় করা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা। এনজিওগ্রাম মানেই স্টেন্ট লাগানো নয় — বরং এটা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রথম ধাপ।

মেইল লিস্টে যুক্ত হোন

Subscription Form

সার্চ করুন

আরোও পড়তে পারেন!

শেয়ার করুন:

চেম্বার

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

রুম নং- ৩২৭, ৩য় তলা, ভবন-২
শেরশাহ রোড, লক্ষীপুর, রাজশাহী
প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত্রী ৮টা।

ম্যাপ লোকেশন